সীমান্তবর্তী উপজেলা বড়লেখায় মাদক চোরাচালান ও এর ব্যাপক ব্যবহার।
বড়লেখা উপজেলার সাথে ভারতের সর্বমোট সীমান্ত আছে প্রায় ২০ কিঃমিঃ।বেশিরভাগ পাহাড়ি অঞ্চল। বি.জি.বি ক্যাম্প আছে বি.ও.সি সীমান্তে, বোবারতল সীমান্তে, শাহবাজপুর, সারোপার, বড়াইল ও কুমারশাইল সীমান্তে।
বড়লেখার পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী ও ভারতের ঐ পাড়ের মাদক ব্যবসায়ী একই ভাষাভাষীর হওয়ায় কিছুদিন লেনদেনের পরে ভারতের ব্যবসায়ীরা বাকীতে পযর্ন্ত বড়লেখার এসব মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মাদক বিশেষ করে ইয়াবা ও ভারতীয় মদ বিক্রি করে শুধুমাত্র চাহিদা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিস্তার বৃদ্ধির জন্য।
আর এসব মাদকের একটা বড় অংশ চলে যায় মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এলাকায়। স্থানীয়ভাবে বড়লেখা বাজার, শাহবাজপুর বাজার এসব এলাকায় কিছু খুচরা মাদক ব্যবসায়ী আছে যাদের পুলিশ বেশ কয়েকবার গ্রেফতার করার পরেও এরা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় ব্যবসা আরম্ভ করে।
মাদকের এই বিস্তার রোধে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে জোরালো ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ জনগণের উচিৎ ভয় না পেয়ে সে যেই হোক যদি আপনার নিকট কোনো মাদক ব্যবসায়ী সম্পর্কে তথ্য ও প্রমাণ থাকে তবে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা এবং নিজের সন্তানকে মাদকের বিষয়ে সচেতন করা।
মাদক ব্যবসায়ীরা ভারত হতে প্রতি পিছ ইয়াবা প্রকার ও মান অনুযায়ী ২৫/৩৫/৪৫ টাকায় কিনে আনে এবং বাংলাদেশে প্রতি পিছ পাইকারি বিক্রি করে ৫৫/৬০/৬৫। বাংলাদেশী সীমান্তবর্তী মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কিছু ডিলার এর কাছে। ঐ ডিলার কোন সময় নিজে আবার কোন সময় লোক ভাড়া করে পৌঁছে দেয় দূরের ব্যবসায়ীদের কাছে। প্রতি পিছ ইয়াবা স্থানভেদে ৭৫/৮০/১২০/১৫০ পযর্ন্ত বিক্রি করে।
নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর এসব স্থানে প্রতি পিছ ইয়াবা মান অনুযায়ী খুচরা ১০০/১৮০/২০০/২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে এবং সময়ের সাথে সাথে এর চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বড়লেখায় প্রতি পিছ ইয়াবা খুচরা বিক্রয় হয় ১০০/১২০ টাকা।
এই মাদকটিতে মেথাস্ফেটামিন থাকার কারণে এর রয়েছে অতি উচ্ছমাত্রার মানসিক টান এবং শরীরের রক্ত চলাচলকে দ্রুত করে, যার কারণে বতর্মান সময়ের তরুণ, তরুণী, মধ্যবয়সী এমনকি স্কুল পড়ুয়া ছাত্ররাও কৌতুহলের বসে প্রথমে মাদকটি সেবন করে এবং মাদকটির উচ্চমাত্রার মানসিক টানের প্রভাব থেকে বের হতে পারে না এবং ধীরে ধীরে আসক্তি বেড়ে যায়
আমাদের বড়লেখা উপজেলায় এই ইয়াবা মাদকটি দিন, দিন বিস্তার লাভ করছে। এই বিষয়ে প্রশাসন, স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক সবাইকেই একজোট হয়ে এর বিস্তার প্রতিরোধ করতে হবে।
(তথ্য সূত্র বিভিন্ন এলাকার পাইকারী ও খুচরা মাদক ব্যবসায়ী, মাদক বহনকারী, মাদকসেবী, ইন্টারনেট, প্রশাসন)