সোমবার, ১৭ মে, ২০২১

সীমান্তে অপরাধ।

মাদকের ভয়াবহতা ও চোরাচালান।

১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশে  মাদকসেবীর সংখ্যা ৭০ লাখ। (২০১৭/২০১৮ এর সমীক্ষা অনুযায়ী ) আর এখানে এখন মাদক হিসেবে ব্যবহারের শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা নামের এক ধরনের ট্যাবলেট৷ এছাড়াও হেরোইন, গাঁজা এবং ফেনসিডিলের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য৷

২০১৭ সাল পর্যন্ত এই চার বছরে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মোট হেরোইন উদ্ধার করেছে ৪৮ কেজি, গাঁজা ১৬ হাজার কেজি, ফেনসিডিল দেড় লাখ বোতল, ইয়াবা ট্যাবলেট ৫০ লাখ পিস৷ এর বাইরে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং কোস্টগার্ড বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে৷মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এই আইনে ২০১৭ সালে সারাদেশে মোট মামলা হয়েছে ১,০৬,৫৩৬টি৷ এই মামলাগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের অভিযোগ, আটক এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ভিত্তিতে করা হয়েছে৷ আর এ সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন৷যে পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধরা পড়ে, তা বিক্রি হওয়া মাদকের মাত্র ১০ শতাংশ৷ আর ৯০ শতাংশ মাদকই ধরা পড়ে না৷ জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ইউএনওডিসি)-র মতে, বাংলাদেশে বছরে শুধু ইয়াবা ট্যাবলেটই বিক্রি হচ্ছে ৪০ কোটির মতো, প্রতিটির দাম দুইশ' টাকা হিসেবে যার বাজারমূল্য প্রায় আট হাজার কোটি টাকা৷মদকাসক্তের সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের সব দেশের মধ্যে সপ্তম৷ মাদকাসক্তরা মাদকদ্রব্য কেনায় বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে৷সব সংস্থা মিলে ২০১৭ সালে অন্যান্য মাদকের সঙ্গে আলোচিত মাদক "ইয়াবা" ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে ৪ কোটি ৮০ হাজার পিস৷ মাদক মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে ১,৮২,৮৩২ জনকে৷দে শের বিভিন্ন থানা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে যারা মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, তারা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে৷ যাদের আটক করা হচ্ছে, তারা মাদকসেবী ও সাধারণ খুচরা বিক্রেতা৷ যারা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন বা মূল পাচারকারী, তারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন না৷ তাদের কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে আবার কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকায়ই আছেন৷ মাদক আইনের ফাঁকের কারণে তাদের ধরাও যাচ্ছে না বলে পুলিশ জানায়৷ মাদক ব্যবসার সঙ্গে কোনো কোনো এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর দুর্নীতিবাজ ও অসৎ কিছু সদস‍্য ও অফিসারদের কারণে মাদকব‍্যবসায়ীদের সাথে তাদের মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের কারণে, সঙ্গে  মাদকের মূল হোতাদের অর্থাৎ যারা সীমান্ত দিয়ে মাদকের চালান দেশে প্রবেশ করায় তাদের আইনের আওতায় আনা বেশ কঠিন হয়ে যায়। আবার কোথাও, কোথাও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে অনেক। মাদকের চাহিদা আছে, তাই সরবরাহও আছে৷ আর এই সরবরাহ বন্ধ করতে না পারলে এর ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না৷ ৷ (চলবে)

মাদক ব‍্যবসায় ও সীমানতবর্তী বড়লেখা উপজেলায় মাদকাসক্ত আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি।

সীমান্তবর্তী উপজেলা বড়লেখায় মাদক চোরাচালান ও এর ব‍্যাপক ব‍্যবহার। বড়লেখা উপজেলার সাথে ভারতের সর্বমোট সীমান্ত আছে প্রায় ২০ কিঃমিঃ। বেশিরভাগ প...